কেমন আছেন লকডাউনে বেকার হয়ে যাওয়া ক্রিকেটাররা?

আশার আলো যেনো জ্বলছেই না। আমরা যখন ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখছি,আমরা যখন জেলায় জেলায় মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করছি, বিদেশ থেকে অসংখ্য শিক্ষার্থী যখন আমাদের দেশে ডাক্তারি পড়তে আসছে ঠিক সেই সময় আসে করোনা ভাইরাসের ভয়াল থাবা। যার কারনে লকডাউনের কবলে পড়ে যায় পুরো বাংলাদেশ। স্তব্ধ হয়ে যায় পুরো বিশ্ব। স্তব্ধ হয়ে যায় বিশ্ব ক্রিকেট। বাদ যায় নি বাংলাদেশ ক্রিকেটও। ক্রিকেটের এই দুঃসময়ে কেমন আছে ক্রিকেটাররা,কিভাবে তাদের সময় কাটছে? বাংলাদেশ ক্রিকেটের এই দুঃসময়ে তাদের দিন কিভাবে কাটছে এই বিষয়ে exbit.today কে বিস্তারিত জানিয়েছেন নিয়মিত ঘরোয়া লীগ খেলা ক্রিকেটার শাহবাজ চৌহান। exbit.today কে তার দেয়া সাক্ষাৎকার তুলে ধরা হলো-

প্রশ্নঃ কেমন আছেন?
উত্তরঃ আলহামদুলিল্লাহ অনেক ভালো আছি।

প্রশ্নঃ করোনা ভাইরাসের কারনে দেশের সব ধরনের ক্রিকেট সাময়ীক ভাবে বন্ধ করে দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। এই সিদ্ধান্তটাকে কিভাবে দেখছেন?
উত্তরঃ এটাতো ১০০% সঠিক সিদ্ধান্ত। কারন এখন যদি খেলা হয় পরিস্থিতি সামলানো অনেক কঠিন হবে। এখন যে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে আমার মনে হয় এটা পার্ফেক্ট সিদ্ধান্ত।

প্রশ্নঃ লকডাউন কেমন কাটছে।যদিও সাধারণ মানুষদের জন্য এখন লকডাউন নেই। কিন্তু আপনাদের উপর এখনো লক ডাউন চেপে আছে। কারন ক্রিকেট না থাকলে বলা যায় আপনারা লকডাউনের মধ্যেই আছেন। তো এই লকডাউনে কেমন ফিল করছেন?
উত্তরঃ ব্যাট বলই আমাদের কাছে সব কিছু, তো ওইটা যখন নেই এই জায়গা থেকে একটু কষ্ট লাগতেছে। চেষ্টা করতেছি নিজেকে ফিট রাখার জন্য,ট্রেনিং করছি।

প্রশ্নঃ এইতো কদিন আগে আপনি ক্রিকবলের একটি লাইভ অনুষ্ঠানে বলেছিলেন জাতীয় দলের ওপেনার সাদমান ভাই সাথে আপনি ঈদ উদযাপন করেছেন। তো সাদমান ভাই সাথে ঈদ উদযাপন কিভাবে করলেন এই বিষয় টি একটু বিস্তারিত বলবেন……
উত্তরঃ হ্যা,আমরা ক্লোজ ফ্রেন্ড। দেখা করতে গিয়েছিলাম। তেমন ভাবে ঈদ উদযাপন হয় নি,রাতের বেলা একটু দূরত্ব বজায় রেখে একটু কথা বলা এই আর কি। অনেক দিন যাবত আমাদের দেখা হয় না। প্রায় ১/২ মাস পর এই যে দেখা করলাম এই আর কি।

প্রশ্নঃ ক্রিকেট মাঠে ঘটা আপনার মজার কিছু ঘটনা শেয়ার করবেন আমাদের সাথে…..
উত্তরঃ ক্রিকেট মাঠে তো আসলে অনেক মজার ঘটনা ঘটে। আসলে সেরকম কোনো মজার ঘটনা এক্সাক্টলি আমার মনে পড়ছে না এখন।

প্রশ্নঃ ক্রিকেট নিয়ে আপনার ভবিষ্যৎ স্বপ্ন কি বা পরিকল্পনা কি এই বিষয়টি যদি একটু বিস্তারিত বলতেন……
উত্তরঃ আসলে সব ক্রিকেটারের একটা স্বপ্ন থাকে। আমার স্বপ্ন বাংলাদেশকে ভালো কিছু রিপ্রেজেন্ট করা। এখন সামনে ন্যাশনাল লীগ বা প্রিমিয়ার লীগ যেইটায় সুযোগ পাই ওখানে পারফর্ম করার চেষ্টা করবো। ন্যাশনাল লীগ টা তো অনেক ইমপর্টেন্ট। স্বপ্ন ন্যাশনাল টিমে খেলা। কিন্তু এখন সামনে যেখানেই খেলার সুযোগ পাই চেষ্টা করবো পারফর্ম করে ন্যাশনাল টিমে খেলার জন্য।

প্রশ্নঃ কখনও ন্যাশনাল টিমে খেলার সুযোগ পেলে কেমন অনুভূতি হবে বা কি করবেন? উত্তরঃ ন্যাশনাল টিমে খেলা তো সবারই স্বপ্ন। এই অনুভূতি টা আসলে যতোদিন খেলবো চিন্তা করতে পারবো না। কেমন অনুভূতি হবে সত্যি বলতে এটা এখন আমার পক্ষে বলাটা খুবই ডিফিকাল্ট। হ্যা যখন আমি অনুর্ধ-১৫ ন্যাশনাল টিমে সুযোগ পেয়েছিলাম তখন অন্যরকম একটা ফিলিংস কাজ করেছিলো। আল্লাহ যদি কপালে রাখে তাহলে ন্যাশনাল টিমে খেলার সুযোগ হবে। ভালো লাগবে। আসলে নিজের দেশকে ভালো কিছু রিপ্রেজেন্ট করার চেয়ে বড় কিছু এবং প্রাউড ফিল করার কিছু নেই।

প্রশ্নঃ ন্যাশনাল টিমের সব চেয়ে প্রিয় খেলোয়াড় কে আপনার?
উত্তরঃ সাকিব আল হাসানকে খুব ভালো লাগে আমার। তার সব কিছু আমি ফলো করতে চাই। মাঠে উনার যে এ্যাগ্রেশন থাকে,মাঠে যে চ্যালেঞ্জ গুলো তিনি নেন সেটা খুব ভালো লাগে। সাকিব ভাই তো আছেই সব সময়। তাছাড়া লিটন দাসের ব্যাটিং টা আমার খুব ভালো লাগে। তার ব্যাটিং দেখতে থাকি এবং আল্লাহর কাছে দোয়া করতে থাকি যেনো সে বড় রান করতে পারে। কারন তার ব্যাটিং টা দেখতে খুব সুন্দর লাগে। খুবই দারুন ব্যাটিং করে সে। তার ব্যাটিং খুব ইনজয় করি আমি।

প্রশ্নঃ সাকিব আল হাসানকে ফলো করার জন্য বা মাঠে ভালো পারফর্ম করার কি কি পদক্ষেপ নেন?
উত্তরঃ মাঠে উনি যেরকম সাহসী থাকে ওই জিনিস টা খুব ভালো লাগে। আমি চাই উনার মতো হতে। অলরাউন্ডার তো না আমি বাট আমি চাই আমি উনার মতো সাহসী হতে প্রতিপক্ষর সাথে ফাইট করার জন্য। যেকোনো কঠিন সিচুয়েশন থেকে ভালো একটি পজিশনে নিয়ে যাওয়া তার এই জিনিস গুলো খুব ফলো করি আমি। প্র‍্যাক্টিস থেকেই সব কিছু। সব সময় চেষ্টা করি প্র‍্যাক্টিস এবং নিজের যে ফিটনেস ট্রেনিং এগুলো ঠিক ভাবে করার জন্য। কারন আপনি যদি নিজের কাজগুলো ঠিক ভাবে করেন তাহলে আপনি পারফর্ম না করতে পারলেও আপনার নিজের মধ্যে একটা বিশ্বাস কাজ করবে যে আমি কষ্ট করেছি এর ফল পাবোই। তো সব সময় এটাই চেষ্টা করি নিজের ফিটনেস ঠিক রাখার জন্য।

প্রশ্নঃ করোনা ভাইরাসের কারনে জনজীবন অতিষ্ঠ এই বিষয়ে সাধারণ মানুষদের উদ্দেশ্যে কিছু বলুন…… উত্তরঃ এখন তো সব কিছু খুলে দেয়া হয়েছে। করোনা ভাইরাস তো এমন না যে বাসায় বসে থাকলে চলে যাবে। সব কিছু বন্ধ করে দিলে ১৫ দিন বা ১ মাস পর করোনা ভাইরাস চলে যাবে যদি এমন হতো তাহলে সব বন্ধ থাকতো। আমরা যখন বাইরে থাকি মাস্ক ব্যাবহার এবং দূরত্ব বজায় রেখে চলতে হবে। বাসায় এসে সাথে সাথে গোসল বা মুখ হাত ভালোভাবে পরিস্কার করে নিতে হবে। এবং যে কাপড়টা পড়ে আছি তা পরিবর্তন করতে হবে তাহলে ভাইরাসটি ছড়ানো খুব কঠিন। আমাদের উচিত যতো সম্ভব পরিস্কার থাকা যায়। আর মাস্ক টা খুব জরুরি কেননা হাচি দেয়ার সময় কাশি দেয়ার সময় মাস্ক থাকলে ভাইরাস ছড়াতে পারে না। এক কথায় বলতে গেলে যতটা সম্ভব বাসায় থাকা যায়,বাসায় এসে গোসল কথা মুখ হাত ধোয়া। এতে আমরা অনেকটা রক্ষা পাবো।

Leave a Reply