ইউয়েফা চ্যাম্পিয়ন্সলিগ ফাইনাল রিয়াল মাদ্রিদ বনাম অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ দৃশ্যটা এখনো অনেকের চোখে ভাসে। বিশেষ করে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের ভক্ত কিংবা রিয়াল মাদ্রিদের প্রতিদ্বন্দ্বী দলের সমর্থক হলে তো কথাই নেই। মিলানের সেই ফাইনালের প্রসঙ্গ উঠলেই তাদের অনেকে সন্দেহটা প্রকাশ করেন, প্রথম গোলটি কি আইনসঙ্গত ছিল? মানে সার্জিও রামোসের গোলটি অফসাইড ছিল কি না?

ঘড়ির কাঁটার হিসেবে চ্যাম্পিয়নস লিগের সেই ফাইনালের পর চার বছর পেরিয়ে গেছে। এত দিন পর সে ম্যাচের প্রসঙ্গ ওঠার কারণ রেফারি মার্ক ক্ল্যাটেনবার্গ। এ ইংলিশ সেদিন ছিলেন ফাইনালের রেফারি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের কাছে সেদিন ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ এক সিদ্ধান্তে নিজের ভুল স্বীকার করেছেন ক্ল্যাটেনবার্গ। রামোসের গোলটি অফসাইড ছিল।

সে ক্ষেত্রে অফসাইডের জন্য রামোসের গোলটি রেফারি বাতিল করলে হয়তো ম্যাচের ফলই ‍ঘুরে যেত! ১৫মিনিটে রিয়াল ডিফেন্ডারের গোলে এগিয়ে ছিল রিয়াল। ৭৯ মিনিটে ইয়ানিক কারাসকোর গোলে সমতায় ফেরে অ্যাটলেটিকো। পরে টাইব্রেকারে চ্যাম্পিয়নস লিগে নিজেদের ১১তম শিরোপাটি জেতে রিয়াল। রামোসের গোলটি স্কোরশিট থেকে মুছে ফেললে কে জানে, হয়তো প্রথম চ্যাম্পিয়নস লিগের স্বাদ পেত অ্যাটলেটিকোই!

সংবাদমাধ্যমকে ক্ল্যাটেনবার্গ বলেন, ‘ফাইনালে রিয়াল প্রথমার্ধে ১-০ গোলে এগিয়ে ছিল। কিন্তু গোলটা ন্যূনতম ব্যবধানে অফসাইড ছিল। বিরতির সময় আমরা এটা ধরতে পারি। সিদ্ধান্ত নেওয়াটা কঠিন ছিল, আমার সহকারি পারেনি।

তবে ক্ল্যাটেনবার্গ কিন্তু অ্যাটলেটিকোকে পুষিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। ৪৬ মিনিটে অ্যাটলেটিকো স্ট্রাইকার ফার্নান্দো তোরেসকে ফাউল করেন রিয়াল ডিফেন্ডার পেপে। পর্তুগিজ ডিফেন্ডার নিজের অপরাধ ঢাকতে আগেভাগে রেফারির ওপর চাপ সৃষ্টি করতে বলেন, ‘এটা কোনো অবস্থাতেই পেনাল্টি নয়, মার্ক।’ ক্ল্যাটেনবার্গের জবাব, ‘সে হিসেবে তোমাদের প্রথম গোলও স্কোরবোর্ডে ওঠা উচিত হয়নি।’ পেপে নাকি এরপর আর কোনো কথা বলেননি, জানান ক্ল্যাটেনবার্গ।

অ্যাটলেটিকো সে পেনাল্টির সদ্ব্যবহার করতে পারেনি। ক্রসবারের ওপর দিয়ে মেরে বসেন সে সময়ে অ্যাটলেটিকো ‘নাম্বার সেভেন’ আঁতোয়ান গ্রিজমান।

তবুও দিন শেষে রেফারির একটি ভুলের কারনেই হয়তো অ্যাটলেটিকোর প্রথম শিরোপা হাত ছাড়া হয়েছে বলা যায়।

Leave a Reply