আব্দুল্লাহ আল মামুন

দুই মাস ধরে বাপের বাড়ি গেলো আমার বউটা
খুঁইজা মরি কোথায় গেল পান সুপারির কৌটা,
ভাল্লাগেনা রোজার মাসে একলা বসে রাঁধতে
পিয়াজ কেটে চোখের জলে চুপটি করে কাঁদতে।

গত বছর আমরা দু’জন কত কাছে থাকতাম
সন্ধ্যেবেলা ইফতারিতে ছোলা মুড়ি মাখতাম,
দুঃখ সুখে ছিল মোদের সমান সমান ভাগ
চলার পথে কোন ভুলে হতামনা কেউ রাগ।

বউয়ের প্রতি আগে ছিলাম খুব কেয়ারিং মন
সকাল বিকাল অকারণে দিতাম শুধুই ফোন,
কথা হতো দিনে রাতে ব্যস্ত সন্ধ্যেবেলা
গগন তলে চাঁদনী রাতে ভাসতো সুখের ভেলা।

বিয়ের সময় একটি টাকা নেইনি আমি পণ
তাইতো বউয়ে হাসি-খুশি থাকে সারাক্ষণ,
পণ না নিয়ে শোধ করেছি বউয়ের মহরানা
এই হৃদয়ের ভালবাসা দিলাম ষোলআনা।

শশুর বাড়ির বড় জামাই কদর আমার বেশি
নিষেধ করার পরেও আব্বা জবাই করে খাসি,
আম্মা রাঁধেন ফিরনি, পায়েস আরও কত কি!
শালাবাবু খুঁজে আনেন খাঁটি গাওয়া ঘি।

শালিদেরকে চোখ রাঙিয়ে রাখি অনেক দুর
পর্দা বিধান অবহেলায় পাল্টে যাবে সুর,
বউয়ের কাছে তাইতো আমি অনেক বেশি দামী
অনেক খুশি বউটা আমার পেয়ে এমন স্বামী।

আসবে ফিরে তাড়াতাড়ি বউটা ফিরে বাড়ি
সুখের ভেলায় আবার দিব তেপান্তরে পাড়ি,
রহমতের মাস এসেছে সামনে আছে ঈদ
আবার যাবো শশুর বাড়ি গাইবো খুশির গীত।

Leave a Reply