Elisa Granato
বয়স: ৩২
নাম সবার জানার কথা নয়। অক্সফোর্ডের নতুন ভ্যাকসিনটা প্রথম তাঁর শরীরে দেয়া হয়।
শরীরে এন্টিবডি তৈরি হলে তাঁকে দেয়া হবে করোনাভাইরাস।
ভ্যাকসিন কাজ না করলে তাঁর মৃত্যু হতে পারে জেনেও করোনায় আক্রান্ত এমন লাখো মানুষের জন্য সে নিয়েছে এই ঝুঁকি।মানুষ মানুষের জন্য এই বিশ্বাসে অনেকে কাজ করে বলে আমরা এখনো দিন বদলের স্বপ্ন দেখি।

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের তাণ্ডবে বিশ্বব্যাপী বিপর্যয় নেমে এসেছে। এর বিষাক্ত ছোবলে প্রতি মুহূর্তে বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা, যেন এর কাছে অসহায় হয়ে পড়েছে বিশ্ব।

অপ্রতিরোধ্য এই ভাইরাসের চিকিৎসায় এখনও পর্যন্ত কোনও ওষুধ আবিষ্কার হয়নি। তবে আশার বাণী হচ্ছে, যুক্তরাজ্রের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা একটি টিকা আবিষ্কার করেছেন। সেটি পরীক্ষামূলকভাবে মানুষের শরীরে প্রয়োগ শুরু হয়েছে।

যুক্তরাজ্যের স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার প্রথম দিনে দুজনকে দেওয়া হয় এই টিকা। 

করোনাভাইরাসের এই টিকা শরীরে গ্রহণকারী প্রথম ব্যক্তি হলেন একজন নারী। তার নাম এলিসা গ্রানাটো।

তিনি একজন বিজ্ঞানী। আগ্রহী হয়েই সবার আগে করোনার টিকা নিয়েছেন। গ্রানাটো বলেছেন, ‘আমি একজন বিজ্ঞানী। সুতরাং আমি চেয়েছি যেভাবে পারি টিকার সায়েন্টিফিক প্রক্রিয়ায় সহায়তা করতে।’

করোনাভাইরাসের টিকা পরীক্ষামূলকভাবে মানবদেহে প্রয়োগের জন্য ৮০০ স্বেচ্ছাসেবক নির্বাচন করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৪০০ জনকে দেওয়া হবে করোনার টিকা। আর বাকি ৪০০ জনকে দেওয়া হবে মিনিনজাইটিস (মস্তিস্কের ঝিল্লি প্রদাহ) টিকা। অবশ্য স্বেচ্ছাসেবকরা কেউ-ই জানতে পারছেন না যে কাকে কোন টিকা দেওয়া হচ্ছে। তবে ডাক্তাররা জানবেন কাকে কোন টিকা দেওয়া হচ্ছে। যা পরবর্তীতে ডাটা সংগ্রহে ব্যবহৃত হবে।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিজ্ঞ টিকাবিদ সারাহ ক্যাথেরিন গিলবার্টের তত্ত্বাবধানে একদল বিজ্ঞানী মাত্র ৯০ দিনে তৈরি করেছেন করোনার এই টিকা। তারা এই টিকা করোনার বিরুদ্ধে কাজ করবে বলে ৮০ শতাংশ আশাবাদী।

অক্সফোর্ডের ‘জেনার ইনস্টিটিউটের’ টিকাবিদ গিলবার্ট এ বিষয়ে বলেছেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে এই টিকার সফলতার ব্যাপারে আমি খুবই আত্মবিশ্বাসী। অবশ্যই আমাদের এটা পরীক্ষা করে দেখতে হবে। মানবদেহে প্রয়োগের ডাটা সংগ্রহ করতে হবে। বড় মাত্রায় এই টিকার প্রয়োগ শুরুর আগে আমাদেরকে দেখতে হবে এটা প্রকৃতপক্ষে মানবদেহে কাজ করে কিনা। এটা মানুষকে করোনা আক্রান্ত হওয়া থেকে রক্ষা করে কিনা।’

শুরুতে তিনি এই টিকার সফলতার বিষয়ে ৮০ শতাংশ আশাবাদী ছিলেন। মানবদেহে প্রয়োগ শুরুর পর তিনি অবশ্য সেটা জোর দিয়ে বলেননি। তবে সফলতার বিষয়ে তিনি যে খুবই আশাবাদী সেটা বলেছেন। শেষ পর্যন্ত এই টিকা সফল হলে বিশ্বের ৮০০ কোটি মানুষের আশার আলো হয়ে দেখা দেবে । তেমন কিছুরই প্রত্যাশায় প্রণাঘাতী করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে বাঁচতে গৃহবন্দি হয়ে থাকা বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ।

Leave a Reply